যশোর ছাতিয়ানতলা ইউনাইটেড কলেজের প্রদর্শক টিপু সুলতান বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৫, ২০২৫, ৩:৩৬ অপরাহ্ন / ১১০
যশোর ছাতিয়ানতলা ইউনাইটেড কলেজের প্রদর্শক টিপু সুলতান বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
রবিউল ইসলাম লাভলু খান:
যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার পারকুল গ্রামের বাবর আলী মোল্লার ছেলে টিপু সুলতান ছাতিয়ানতলা ইউনাইটেড কলেজের প্রদর্শকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিউজিল্যান্ডে চাকরি দেবার নামে বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে মোঃ নেছার আলী খানের ছেলে আহাদ আলীর কাছ থেকে ছয় লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদে গ্রহণ করে টিপু সুলতান। দীর্ঘ ১ বছর পার হলেও আহাদ আলীর ছেলে আকাশকে আজও কোন নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর কোন ব্যবস্থা করেনি টিপু সুলতান। এঘটনায় আহাদ আলী টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করে টিপু সুলতান। আহাদ আলী নিরূপায় হয়ে ১৪ জানুয়ারী যশোর চীফ জুডিশিয়াল আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ২১৬/২৫।
ভুক্তভোগী আহাদ আলী খান জানান, আমি বছর খানেক আগে বাঘারপাড়া উপজেলায় কৃষি ব্যাংকের কর্মরত থাকাকালীন সময়ে টিপু সুলতানের সাথে আমার পরিচয় এবং কয়েক মাস সে আমার সাথে একটা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হয়ে ওঠে এবং সে এক পর্যায়ে আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য আমাকে প্রস্তাব ও বিভিন্ন প্রলোভন দেয় এবং সে নিজের ছেলেকেও ইউরোপে পাঠিয়েছে বলে আমাকে জানায়, এইরূপ সপ্তাহখানেক পরেও সে আমার কাছে আসে এবং পুনরায় আবার আমাকে আমার নিজ সন্তানকে বিদেশ পাঠানোর ব্যাপারে বলে। একপর্যায়ে আমি রাজি হই আমার সাথে ১২ লক্ষ টাকার চুক্তিও হয় এবং টিপু সুলতান আমার কাছ থেকে আগে ৭ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে আর বাকি টাকা ভিসা পাওয়ার পরে দিতে বলে আমি টিপু সুলতানকে বিশ্বাস করে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নগদ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করি। আর বাকি টাকা চুক্তি অনুযায়ী দেওয়ার কথা বলি এবং আমার ছেলেকে এক মাসের মধ্যে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং চুক্তিবদ্ধ হয়। এমত অবস্থায় এক মাস হয়ে গেলে আমি তার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করি। সেময় টিপু সুলতান আমাকে বলে একটু সমস্যার কারণে হয়নি তবে ভাই আমাকে ১০ দিন সময় দেন আমি আগামী ১০ দিনের ভিতরে আপনার ছেলেকে ভিসা দিয়ে বিদেশ পাঠাবো। সেই কথা শুনে আমি চলে আসি দশ দিন হয়ে গেলে আমি তার সাথে দেখা করলে সে বিভিন্ন তালবাহানা করে এবং আরো একমাস সময় চায়। আমি তাহার এই প্রস্তাবে রাজি না হলে দুইজনের ভিতর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার এলাকাবাসী প্রতিবেশী আমাদের নিকট আসে এবং তার পক্ষ হয়ে আমার কাছে এক মাস সময় দিতে বলে আমি তাদের পীড়াপীড়িতে একপর্যায়ে রাজি হয়ে যায়। এই রূপ আবারো এক মাস হয়ে গেলে আবার যখন চলে আসে তখন আমি তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি এবং সে আমার থেকে পালিয়ে বেড়ায় তার আর কোন খোঁজ পায় না। দুই তিন সপ্তাহ পর আমি তার কর্মস্থান ছাতিয়ানতলা ইউনাইটেড কলেজে খোঁজ নিয়ে তার সন্ধান মিলে, টিপু সুলতান আমাকে দেখে চড়াও হয় এবং আমাকে বকাবকি করে কারণ সে আমাকে মিথ্যা বলছিল এই যে টিপু সুলতান ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক কিন্তু  সে ওই কলেজের প্রদর্শক। আমি তার সম্পর্কে আরো খোঁজ নিয়ে দেখি আমি ছাড়াও আরো লোকের সাথে টিপু সুলতান প্রতারণা করেছে। টিপু সুলতান শিক্ষকতার সাইনবোর্ড লাগিয়ে চিটারি, ধাপ্পাবাজি করে বেড়ায় কারণ সে জানে মানুষ সাধারণত শিক্ষকদেরকে সম্মান করা ছাড়াও পেশাকে শ্রদ্ধা ভক্তি করে এবং বিশ্বাস করে তাই সে এই পথ বেছে নেই।
আরো খোঁজ নিয়ে জানতে পারি টিপু সুলতান আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর সময় ঋণগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় সে নিজের  ঋণ শোধ দেয় এবং চার লক্ষ টাকা দিয়ে একটি প্রাইভেট কার ক্রয় করে এবং এই সমস্ত কার্যক্রম প্রচলন রাখে। টিপু সুলতান কে আমার টাকা ফেরত দিতে বলিলে সে আবারও আমার কাছ থেকে এক মাস সময় দিতে বলে আমি রাজি না হলে আবারো আমার সাথে কথা কাটাকাটি হয় এবং সে আমাকে মারধরকর করতে যায়। আমি সেখান থেকে চলে আসি ঘটনাটি তার প্রতিবেশীদের কে জানায় তারা আমার নিয়ে তার বাড়িতে যায় এবং তাকে কাজ না পারলে টাকা ফেরত দিতে বলে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীর সাথেও অনুনয়-বিনয় করে তার স্ত্রী এবং টিপু সুলতান। এক মাস সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে এবং তার স্ত্রী বলে এক মাসের ভিতর যে করেই হোক আমার টাকা সব পরিশোধ করে দিবেন ওই সময় তার স্ত্রী এবং এলাকাবাসীর অনুরোধে টিপু সুলতান কে আরো এক মাস সময় দি এবং বাড়ি চলে আসি। এইভাবে এক মাস পরে আমি তাকে ফোন দিই তাকে ফোন দিলে সে আমার ফোন ধরে না, পরে আমি তার বাড়িতে আসিলে দেখি স্ত্রী কাউকে তার বাড়িতে নাই আমি সেখানে ঘন্টাখানেক অবস্থান করি পরে আমার বাড়িতে চলে যায় এবং বিষয়টা আমার কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীদেরকে জানাই পরে তাদের সহযোগিতায় তাকে খুঁজে পায় এবং সে আমাকে একটি ওই টাকার  চেক প্রদান করে। চেক ক্যাশ  করার জন্য ১/১২/২৪তারিখে ব্যাংকে যাওয়ার পূর্বে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় সাক্ষাৎকালে সে আমাকে আশ্বস্ত করে ব্যাংকে গেলেই চেকটি ক্যাশ হবে এরপর ব্যাংক এ পৌঁছানোর পরে ব্যাংক কর্মকর্তা আমাকে জানান তার একাউন্টে কোন টাকা নাই এবং চেকটি ডিজঅনার হয়।
সর্বশেষ আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হই। আমি আইনের মাধ্যমে তাকে ৫/১২/২৪লিগাল নোটিশ পাঠায় এবং সে ৯/১২/২৪নোটিশটি পায় এবং গ্রহণ করে কিন্তু সে জবাব দেয় না। বাংলাদেশের আইনের দণ্ডবিধি অনুযায়ী যেন তার শাস্তি হয় আমি সেই শাস্তি দাবি করি।
এই ঘটনায় টিপু সুলতান জানান, আহাদ আলী খানের কাছ থেকে আমি ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তার ছেলে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে গ্রহণ করেছি। মাসখানেক পরে আমি তার টাকা ফেরত দিব। ওই টাকা আমি খরচ করে ফেলেছি। আমার ছেলে বিদেশ সে টাকা পাঠালে আমি আহাদ আলী খানের টাকাটা দিয়ে দিব।