শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি হয় নেশা আখড়া, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার কি হবে?


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ২:১৯ অপরাহ্ন / ১৮৮
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি হয় নেশা আখড়া, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার কি হবে?

মাসুদ চৌধুরী সাঈদ, মানিকগঞ্জ:

স্কুল মানে মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি চলে নেশা, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা কি হবে এমন প্রশ্ন এলাকাজুড়ে। যদি চলে নেশার আড্ডা, মানুষ হওয়া তো দূরের কথা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হবে ধ্বংস সুধীমহলের অভিমত। শিক্ষার মান উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে হবে স্বচ্ছ-পরিচ্ছন্ন নেশা মুক্ত পরিবেশ। মানিকগঞ্জে শিবালয় উপজেলার ৪৭ নং বিবিরাস্তী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী চাকরিরত উপজেলার বিবিরাস্তী গ্রামের আওয়ামী যুবলীগ নেতা মোঃ জাকির হোসেনের পুত্র সজীব। সে ২০১৬ সালে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিশেষ সুপারিশে চাকরি লাভ করেন। তখন এই পদের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকলেও কেউ জানার আগেই দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরীর চাকরি ছিনিয়ে নেয় সজীব। এ কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়। সজীবের বাবা মোঃ জাকির হোসেন উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি হ‌ওয়ায় তার এ পদে চাকরিটি সহজে ঘুষ বাণিজ্যে সম্ভব হয়। এলাকা সূত্রে জানা যায়, চাকরির আগে থেকেই নেশা যুক্ত ছিলো। আওয়ামী ক্ষমতায় চাকরি পেয়ে যা খুশি তাই করতে থাকে। তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলেন এক নেশার রাজ্য। দিনের বেলায় যেমন তেমন রাতে জমে উঠে উৎসবমুখর নেশা ঘর। বাহিরে কোন লোক ভিতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও নেশার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে নেশাখোর ব্যক্তিরা এসে আড্ডা জমায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষকরা তাকে হাতেনাতে ধরার পরও বিভিন্ন সময় সতর্ক করে, ভালো হওয়ার সুযোগ দিলেও ঘুরে তাকাইনি সজীব। সমস্ত কিছু পিছনে ফেলে চালিয়ে যেতেন নেশার স্বর্গরাজ্য। কখনো গাঁজা কখনো বা ইয়াবা। অনেক‌ই তাকে বাবাখোড় বলে চেনে। শিক্ষকদের উদাসীনতায় চলছে তার এই অপকর্ম। আসলে শিক্ষকদের উদাসীনতা নাকি ভয়। এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে নারাজ তার ভয়ে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অফিস কক্ষের আলমীরার তালা কাটার। বিচারের আওতায় না এনে সুযোগের পর সুযোগ। তাহলে কি এই সুযোগ দিচ্ছে শিক্ষকরা। সম্প্রতি কিছুদিন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে শিক্ষকরা। ৪-৫ দিন এলাকার কিছু লোক ও শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মাদকদ্রব্য না দিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইউনুস আলী অন্য কিছু তুলে দেন পুলিশের হাতে। এ নিয়েও রয়েছে নানা সমালোচনা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাকে সহযোগিতা করে আসছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এলাকায় এ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা থাকলেও মুখ বন্ধ শিক্ষকদের। তাঁরা নানা তালবাহানার কথা বলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, সজীব সব সময় নেশাগ্রস্ত থাকে। আমরা সরাসরি কিছু বলতে পারি না। আমাদের উপর হামলা করতে পারে। আমরা চাই দ্রুত তাকে অপসারণ করা হোক। নেশাগ্রস্ত ব্যাক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারে না। অত্র বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ইউনুস আলী বলেন, সে নেশা করে এটা সবাই জানে আমরাও জানি। বারবার তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এবারও তাকে সুযোগ দিয়েছি। অনেকবার তাকে সুযোগ দেওয়ার পরও তার পরিবর্তন আসেনি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমরা আর কিছু বলতে পারব না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকরী রানী সাহার বিরুদ্ধে রয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর সার্টিফিকেট দিয়ে ৫শত করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ। গত বছর ২০২৪ এলাকাবাসীর কাছে ধরা পরার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা নেননি কতৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক শংকরী রানী সাহা বলেন, এবিষয়ে এলাকায় মিমাংসা হয়েছে। আপনার স্কুলের দপ্তরী, আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের স্কুলে কিছুই হয় নাই। তিনি আরো বলেন, আপনি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন। উত্তেজিত হয়ে বলেন, এখান থেকে আপনি বের হবেন না বলেই তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের ডাকতে বের হন।
শিবালয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজা খান ইউসুফী বলেন, আমি নতুন এসেছি। এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না, আপনার কাছে শুনলাম। পাশে থাকা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ সায়েদুর রহমান অফিসারকে বলেন, স্যার আমি দু’সপ্তাহ আগে জানি। শিক্ষা অফিসার বললেন, আমাকে কেন জানাননি। এ কথা শুনে সায়েদুর রহমান নিরবতা পালন করেন। ঠিক আছে, বিষয়টি আমি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মাসুদ চৌধুরী সাঈদ, ক্রাইম রিপোর্টার মানিকগঞ্জ ।