

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ফ্ল্যাটের সংখ্যা এবং দাম নিয়ে আপনি যে তথ্যটি উল্লেখ করেছেন, তাতে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী হলফনামা (২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া) এবং বিগত সময়ের তথ্যের আলোকে সঠিক হিসাবটি নিচে তুলে ধরা হলো:
৮টি ফ্ল্যাট এবং ৬৫ লক্ষ টাকা সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী হিসাবটি নিম্নরূপ:
ফ্ল্যাটের সংখ্যা: রুমিন ফারহানা তার সাম্প্রতিক হলফনামায় ঢাকার ধানমন্ডিতে ৫টি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছেন (পূর্বে ২০১৮ সালে তিনি ৪টি ফ্ল্যাটের তথ্য দিয়েছিলেন)।
মূল্যে: ৬৫ বা ৬৯ লক্ষ টাকার কথা বলছেন, সেটি আসলে তার ৪টি বা ৫টি ফ্ল্যাটের মোট পূর্বের বাজারমূল্য , এটি ছিল সেগুলোর ‘অর্জনকালীন’ বা দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য। বাংলাদেশে হলফনামায় সাধারণত ক্রয়ের সময়ের মূল্য উল্লেখ করা হয়। ধানমন্ডির মতো এলাকায় ৫টি ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হওয়া স্বাভাবিক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তার জমা দেওয়া তথ্যে যা পাওয়া গেছে:
স্থাবর সম্পদ: ধানমন্ডিতে ৫টি ফ্ল্যাট এবং ৫ কাঠা জমি।
নগদ ও ব্যাংক জমা: প্রায় ৩২ লক্ষ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা।
বার্ষিক আয়: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রিটার্ন অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা।
স্বর্ণালঙ্কার: উপহার হিসেবে পাওয়া ১০ ভরি স্বর্ণ (পূর্বে ৩০ ভরির কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে ১০ ভরির কথা খবরে এসেছে)।
এটি নিশ্চিত যে, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। দল এই আসনটি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছিল।
সম্প্রতি বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সম্পদের যে হিসাবটির কথা বলছেন, তা মূলত বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (২০১৮) সময় জমা দেওয়া হলফনামা এবং পরবর্তী সময়ে আলোচিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। আপনার উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী রুমিন ফারহানার সম্পদ ও বহিষ্কার সংক্রান্ত বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিগত নির্বাচনের হলফনামা এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তার সম্পদের একটি বিবরণ পাওয়া যায়:
৪টি ফ্ল্যাট: ঢাকার লালমাটিয়ায় তার ৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে যার যৌথ অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৬৯ লক্ষ টাকা (মূলত ৬৯ লক্ষ ৩ হাজার ৬০০ টাকা)। তবে এই মূল্যটি ছিল ফ্ল্যাটগুলোর ‘ক্রয়কালীন’ বা সরকারি দাপ্তরিক মূল্য, বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে বহুগুণ বেশি।
নগদ টাকা ও ব্যাংক জমা: হলফনামা অনুযায়ী তার কাছে নগদ ও ব্যাংকে প্রায় ১৪-১৫ লক্ষ টাকা জমা ছিল।
স্বর্ণালঙ্কার: উপহার হিসেবে পাওয়া ৩০ ভরি স্বর্ণের কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
অন্যান্য সম্পদ: ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং আসবাবপত্র বাবদ প্রায় ৫ লক্ষ টাকার সম্পদ এবং একটি বিলাসবহুল পাজেরো জিপের (শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রাপ্ত) তথ্য আলোচনায় এসেছিল।
রুমিন ফারহানা তার এই ফ্ল্যাটগুলোর মূল্য নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে এর আগে জানিয়েছিলেন যে, এগুলো পৈত্রিক সূত্রে বা অনেক আগে কেনা হওয়ার কারণে দলিলের মূল্য অনুযায়ী হিসাব দেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার মামলার সংখ্যা ও সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, তার প্রধান তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৪টি মামলা রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আইনে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন এবং হলফনামার তথ্যানুযায়ী তার সম্পদের বিবরণ নিম্নরূপ:
বার্ষিক আয়: তার মোট বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
আয়ের উৎস: * বাড়িভাড়া থেকে বছরে আয় করেন ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
শিক্ষকতা ও পরামর্শমূলক পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা।
যানবাহন ও ঋণ: হলফনামা অনুযায়ী তার নিজের নামে কোনো যানবাহন নেই এবং ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোনো ঋণ নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয়। এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে রুমিন ফারহানা ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিএনপি তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :